গোলাপ ফুল চাষ পদ্ধতি।অর্জন করুন বৈদেশিক মুদ্রা।

ফুলের রানী গোলাপ

গোলাপকে ফুলের রানি বলা হয়। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে বহুজমিতে গোলাপের চাষ হচ্ছে এবং দিন দিন গোলাপের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গোলাপ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

জাত সমূহ

পৃথিবীজুড়ে গোলাপের অসংখ্য জাত রয়েছে। জাতগুলোর কোনোটির গাছ বড়, কোনোটি ঝোপালো, কোনোটি লতানো। জাত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গোলাপ সাদা, লাল, হলুদ, কমলা, গোলাপি এবং মিশ্রিত রঙের হয়ে থাকে। এ ছাড়াও রানি এলিজাবেথ (গোলাপি), ব্ল্যাক প্রিন্স (কালো), ইরানি (গোলাপি), মিরিন্ডা (লাল), দুই রঙা ফুল আইক্যাচার চাষ করা হয়।

বংশ বিস্তার

গোলাপের বংশ বিস্তারের জন্য অবস্থাভেদে শাখা কলম, দাবা কলম, গুটি কলম ও চোখ কলম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য বীজ উৎপাদন করে তা থেকে চারা উপাদন করা হয়।

জমি নির্বাচন

গোলাপ চাষের জন্য উর্বর দোআঁশ মাটির জমি নির্বাচন করা উত্তম। ছায়াবিহীন উঁচু জায়গা যেখানে জলাবদ্ধতা হয় না, এরূপ জমিতে গোলাপ ভালো জন্মে।

জমি তৈরি

নির্বাচিত জমি ৪-৫ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুর ঝুরা ও সমতল করতে হবে। এরপর মাটি কুপিয়ে ৫ সেমি উঁচু করে ৩ মি. x ১মি. আকারের বেড বা কেয়ারি তৈরি করতে হবে। এভাবে কেয়ারী তৈরির পর নির্দিষ্ট দূরত্বে ৬০ সেমি. x ৬০ সেমি. আকারের এবং ৪৫ সেমি. গভীর গর্ত খনন করতে হবে। গর্তের উপরের মাটি ও নিচের মাটি আলাদা করে রাখতে হবে। চারা রোপণের ১৫ দিন আগে গর্ত করে খোলা রাখতে হবে। এ সময়ে গর্তের জীবাণু ও পোকামাকড় মারা যায়।

সার প্রয়োগ

প্রতি গর্তের উপরের মাটির সাথে ছকে প্রদত্ত সারগুলো মিশিয়ে গর্তে ফেলতে হবে। এরপর নিচের মাটির সাথে ৫ কেজি পচা গোবর, ৫ কেজি পাতা পচা সার ও ৫০০ গ্রাম ছাই ভালোভাবে মিশিয়ে গর্তের উপরের স্তরে দিতে হবে। এভাবে গর্ত সম্পূর্ণ ভরাট করার পর ১৫-২০ দিন ফেলে রাখলে সারগুলো পচবে ও গাছ লাগানোর উপযুক্ত হবে। বর্ষাকালে যাতে গাছের গোড়ায় বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সে জন্য নালা তৈরি করতে হবে।

চারা বা কলম রোপণ

আশ্বিন মাস চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে পৌষ মাস পর্যন্ত চারা লাগালে বেডের গর্তের মাঝখানে ক্ষুদ্রাকৃতির গর্ত খুঁড়ে চারা লাগাতে হয়। প্রথমে পলিথিন ব্যাগ বা মাটির টব থেকে চারা বের করে দুর্বল শাখা, রোগাক্রান্ত শিকড় ইত্যাদি কেটে ফেলতে হয়। চারা লাগিয়ে গোড়ায় শক্তভাবে মাটি চেপে দিতে হবে। চারা রোপণের পর চারাটি একটি খুঁটি পুতে খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হবে। চারা লাগিয়ে গোড়ায় পানি দেওয়া উচিত। ২-৩ দিন ছায়ার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।

পরিচর্যা

লাল গোলাপ

আগাছা দমন

গোলাপের কেয়ারিতে অনেক আগাছা হয়। আগাছা তুলে ফেলতে হবে।

পানি সেচ

মাটির আর্দ্রতা যাচাই করে গাছের গোড়ায় এমনভাবে সেচ দিতে হবে যেন মাটিতে রসের ঘাটতি না হয়।

পানি নিকাশ

গোলাপের কেয়ারীতে কোনো সময়ই পানি জমতে দেওয়া উচিত নয়। কারণ গোলাপ গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না।

ডাল-পালা ছাঁটাইকরণ (Prunning)

গোলাপের নতুন ডালে বেশি ফুল হয়। তাই পুরাতন ও রোগাক্রান্ত ডালপালা ছাঁটাই করা প্রয়োজন। প্রতিবছর গোলাপ গাছের ডালপালা ছাঁটাই করলে গাছের গঠন কাঠামো সুন্দর ও সুদৃঢ় হয় এবং অধিক হারে বড় আকারের ফুল ফোঁটে।

ফুলের কুড়ি ছাঁটাই

অনেক সময় ছাঁটাই করার পর মূলগাছের ডালে অনেক পত্রমুকুল ও ফুলকুঁড়ি জন্মায়। সবগুলো কুঁড়ি ফুটতে দিলে ফুল তেমন বড় হয় না। তাই বড় ফুল ফোটার জন্য আসল কুঁড়ি রেখে পাশের কুঁড়ি গুলো ধারালো চাকু দিয়ে কেটে দিতে হয়।

পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনা

গোলাপ গাছে যেসব পোকা দেখা যায় তন্মধ্যে রেড স্কেল ও বিটল প্রধান।

রেড স্কেল

এ পোকা দেখতে অনেকটা মরা চামড়ার মতো। গরমের সময় বর্ষাকালে এর আক্রমণ বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ পোকা গাছের বাকলের রস চুষে খায়। ফলে বাকলে ছোট ছোট কালো দাগ পড়ে। প্রতিকার না করলে আক্রান্ত গাছ মারা যায়। গাছের সংখ্যা কম হলে দাঁত মাজার ব্রাশ দিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্রাশ করলে পোকা পড়ে যায়। ম্যালাথিয়ন বা ডায়াজিনন ঔষধ প্রয়োগ করে এ পোকা দমন করা যায়।

বিটল পোকা

শীতকালের শেষে এ পোকার আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। এ পোকা গাছের কচি পাতা ও ফুলের পাপড়ি ছিদ্র করে খায়। সাধারণত রাতের বেলা আক্রমণ করে। আলোর ফাঁদ পেতে এ পোকা দমন করা যায়। ম্যালথিয়ন বা ডাইমেক্রন ছিটিয়ে এ পোকা দমন করা যায়।

রোগ ব্যবস্থাপনা

গোলাপ গাছে অনেক রোগ হয়। তন্মধ্যে কালো দাগ পড়া রোগ, ডাইব্যাক ও পাউডারি মিলডিউ প্রধান।

কালো দাগ পড়া রোগ

গোলাপের কালো দাগ পডা রোগ

এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। রোগাক্রান্ত গাছের পাতায় গোলাকার কালো রঙ্গের দাগ পড়ে। আক্রান্ত গাছের পাতা ঝরে গিয়ে গাছ পত্রশূন্য হয়ে যায়। চৈত্র থেকে শুরু করে কার্তিক মাস পর্যন্ত এ রোগের আক্রমণ ঘটে। এ রোগের প্রতিকারের জন্য গাছে সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের গোড়ায় যেন পানি জমে না থাকে সে দিকে খেয়াল করতে হবে। এ ছাড়া ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে এ রোগ দমন করা যায়। আক্রান্ত পাতাগুলো কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হয়।

ডাইব্যাক

ডাল ছাঁটাইয়ের কাটা স্থানে এ রোগ আক্রমণ করে। এ রোগ হলে গাছের ডাল বা কাণ্ড মাথা থেকে কালো হয়ে নিচের দিকে মরতে থাকে। এ লক্ষণ ক্রমে কাণ্ডের মধ্য দিয়ে শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে এবং সম্পূর্ণ গাছ মারা যায়। এ রোগ দমন করতে হলে আক্রান্ত কাণ্ড বা ডালের বেশ নিচ থেকে কেটে পুড়ে ফেলতে হবে। ডাল ছাঁটাইয়ের চাকু জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে ডাল ছাঁটাই করা উচিত। কর্তিত স্থান স্পিরিট দিয়ে মুছে দিতে হবে।

পাউডারি মিলডিউ

এটি একটি ছত্রাক জনিত রোগ। শীতকালে কুয়াশার সময় এ রোগে বিস্তার ঘটে। এ রোগে আক্রান্ত হলে পাতা, কচিফুল ও কলিতে সাদা পাউডার দেখা যায়। ফলে কুঁড়ি না ফুটে নষ্ট হয়ে যায়। এ রোগ দমন করতে হলে আক্রান্ত ডগা বা পাতা তুলে পুড়িয়ে দিতে হবে। এছাড়া থিওভিট বা সালফার ডাইথেন এম-৪৫ পানিতে মিশিয়ে সপ্তাহে একবার সেপ্র করে এ রোগ করা যায়।

ফুল সংগ্রহ

ফুল সংগ্রহ

ফুল ফোটার পূর্বেই গাছ হতে ফুল সংগ্রহ করতে হয়। সংগ্রহের পর ফুলের ডাটার নিচের অংশ পরিষ্কার পানিতে ডুবিয়ে ঠাণ্ডা জায়গায় রাখলে ফুল ভালো থাকে। মাঝে মাঝে ফুলে পানির ছিটা দেওয়া ভালো।

গোলাপ চাষে ক্যাপ প্রযুক্তি

গোলাপ চাষে ক্যাপ প্রযুক্তি একটি সফল ও জনপ্রিয় প্রযুক্তি হওয়ার পরও বাংলাদেশে এর ব্যবহার নেই বললেই চলে। যে গোলাপ ফুলটির দাম বর্তমানে দুই টাকা, ক্যাপ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সেই ফুলটির গুণগতমান বৃদ্ধি পেয়ে দাম হয় ১০ টাকা। শুধু তাই নয়, ফুলটি আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির উপযোগী হয়। আর এ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ফুলপ্রতি খরচ হয় মাত্র ৫০ পয়সা।

আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের ফুলের চাহিদা বেশি। উন্নতমানের গোলাপ উত্পাদনের জন্য সে দেশের ফুলচাষিরা নিয়মিত রোজক্যাপ ব্যবহার করেন। রোজক্যাপ হল স্থিতিস্থাপকতা গুণসম্পন্ন প্লাস্টিকের এক ধরনের ক্যাপ। গোলাপের কুঁড়ি বের হওয়ার পর ক্যাপটি ওই কুঁড়িতে পরিয়ে দিতে হয়। এতে গোলাপ কুঁড়িটি সুরক্ষিত থাকে এবং পোকা-মাকড়ের উপদ্রব ও প্রাকৃতিক সব ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। এ ক্যাপটি স্থিতিস্থাপক হওয়ায় কুঁড়িটি বড় হওয়ার সাথে সাথে ক্যাপটিও বাড়তে থাকে। এ কারণেই ক্যাপের ভেতর কুঁড়িটি একটি উন্নতমানের পূর্ণাঙ্গ গোলাপ হিসেবে প্রস্ফুটিত হয়। গোলাপের বাহিরে ক্যাপটি থাকায় ফুল সংগ্রহ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে ফুলের কোনো ক্ষতি হয় না।

বাংলাদেশে উন্নতমানের গোলাপ উত্পাদনের জন্য এখনো রোজক্যাপ নামে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি ফুলচাষিদের অজানা। এ কারণেই দেশে এই ক্যাপ তৈরি হয় না এবং আমদানিরও ব্যবস্থা নেই। সমপ্রতি কয়েকজন উদ্যোক্তা চীন থেকে কিছু ক্যাপ এনে ব্যবহার করে শতভাগ সুফল পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে গদখালির সরদার নার্সারি। এই নার্সারির মালিক রুস্তম আলী সরদার জানান, আগে যে ফুল ফুটত সেগুলো প্রতিটি বিক্রি হত দুই টাকায়। এখন সেই ফুল এত উন্নতমানের হচ্ছে যে তার দাম উঠেছে ১০ টাকায়। শুধু তা-ই নয়, এ ফুলের সবটাই রফতানি মানের। তবে এই ক্যাপ আমদানি না হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। ফুলচাষিদের কল্যাণে বিশেষ করে ফুল রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বার্থে রফতানিযোগ্য ফুল উত্পাদনের জন্য তারা রোজক্যাপ আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ফুল চাষের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ফুল চাষের বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কৃষি কর্মকর্তা না থাকায় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পাওয়া যায় না। গত তিন দশক ধরে ফুলের যে আবাদ হচ্ছে তা অনেকটা অনুমানের ওপর নির্ভর করে। আন্দাজে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় ফুলচাষিরা ক্ষতির শিকার হন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে বাংলাদেশের ফুলের বাজার তৈরি করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে তবে এর জন্য প্রয়োজন নিত্যনতুন প্রযুক্তি ব্যবহার ও আর্ন্তজাতিক গুণগতমানসম্পন্ন ফুল উত্পাদন। এক্ষেত্রে রোজক্যাপ প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ।

উত্পাদিত ফসল বা পণ্যের মূল্য সংযোজনের জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। মুক্তবাজার অর্থনীতির এই সময়ে দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য নিত্যনতুন প্রযুক্তি গ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের দেশে বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানে এখন ফুলের ব্যবহার প্রায় অপরিহার্য। আর তাই চাহিদার সাথে সাথে দেশে ফুল চাষের এলাকা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকায় বিদেশ থেকে আমদানি করা ফুলের ব্যবসাও বেশ জমজমাট। বেসরকারি উদ্যোগে বিদেশ থেকে গোলাপের ক্যাপ আমদানি করে দেশে গোলাপ চাষকে উত্সাহিত করা সম্ভব। একই সাথে বিভিন্ন সরকারি নার্সারি ও উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ এ প্রযুক্তি সমপ্রসারণে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারে।

Cultivation ফল চাষ

ফলগাছ রোপণে করণীয়

গ্রীষ্মের শেষে প্রথম বৃষ্টি হলেই আমরা গাছ রোপণের কথা চিন্তা করি। ভাবি, বাড়ির আশপাশের ফাঁকা জায়গাটা এবার গাছে গাছে ভরিয়ে দেবো। বাদ যাবে না ঘরের বারান্দা কিংবা ছাদও। অনেকের চিন্তাটা মাথার ভেতরেই ঘুরপাক খেতে থাকলেও অনেকে বাস্তবায়ন করতে মাঠেও নেমে পড়ি। প্রিয় গাছের চারা বা কলম খুঁজতে ছুটে যাই সরকারি বা বেসরকারি নার্সারিতে। কাংখিত গাছের চারা বা কলম পেয়েও যাই। তাৎক্ষণিকভাবে রোপণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় লাগিয়েও ফেলি। লাগিয়েই ভাবি, যাক কিছু দিনের মধ্যেই জায়গাটা সবুজে সবুজে ভরে যাবে। কিন্তু না, ভাবনার সাথে বাস্তবতাটা ঠিক মেলে না। ক’দিন পরেই দেখা যায় চারা বা কলম সঠিকভাবে বাড়ছে না। শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কী যে হলো চারাগুলোর। চারা বা কলমের এই সমস্যাটা কিন্তু কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখলেই দূর করা যায়। তাহলে চলুন কারণগুলো একে একে জেনে নেয়া যাক।

গ্রীষ্মের শেষে প্রথম বৃষ্টি হলেই গাছের চারা বা কলম রোপণ করা ঠিক নয়। একটু অপেক্ষা করতে হয় পরের দু’তিন বার বৃষ্টির জন্য। কারণ প্রথম বৃষ্টির পর মাটির ভেতরে সৃষ্টি হওয়া গ্যাস বের হওয়ার জন্য বা মাটিতে কিছুটা রস সঞ্চয়ের জন্য সময় দিতে হয়। তাই পর পর কয়েকবার বৃষ্টি হলে মাটির ভেতর ও বাইরের আবহাওয়া প্রায় সম পর্যায়ে চলে আসে। অর্থাৎ মাটির রস ও বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এই অবস্খায় গাছের চারা বা কলম রোপণ করলে সেগুলো আর মরে না। প্রতিবìধকতা দূর হওয়ায় চারাগুলো তরতর করে বেড়ে উঠতে থাকে।

দেশের অনেক জায়গাতেই এখন মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। তাপমাত্রা বেশি থাকলেও বাতাসের আর্দ্রতা আগের তুলনায় বেশ বেড়ে গেছে। ফল বা কাঠজাতীয় যেকোনো গাছের চারা বা কলম রোপণের সময় এখনই। এ জন্য বেশ কিছু করণীয় কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চারা বা কলম নির্বাচন, রোপণের জায়গা ঠিক করা, চারা বা কলমের জাত অনুসারে সঠিকভাবে গর্ত তৈরি, গর্তে সঠিক নিয়মে সার ব্যবহার, গর্তে সঠিক নিয়মে চারা বা কলম রোপণ এবং রোপণ করা গাছের সুরক্ষা প্রদান।

রোপণ করার জন্য যে চারা বা কলম নির্বাচন করা হবে তার বয়স কখনোই এক বা দু’ বছরের বেশি হওয়া চলবে না। আমাদের অনেকেরই ধারণা, বড় আকারের চারা বা কলম রোপণ করলে সেটা খুব তাড়াতাড়ি বড় হবে এবং ফল দিতে শুরু করবে। সত্যি বলতে কি ধারণাটি একদম ভুল। ছোট আকারের নিখুঁত ও তেজি চারা বা কলম সহজেই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং দ্রুত বেড়ে ওঠে। চারা বা কলম বাছাই করার সময় আরো যেসব বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। চারা বা কলমের নতুন পাতা থাকলে সেই চারা বা কলম রোপণের জন্য বাছাই করবেন না। চারা বা কলমে ফুল বা ফল থাকলে সেটাও রোপণের জন্য বাছাই করবেন না। রোপণের জন্য বাছাই করা চারা বা কলমটি সোজা হতে হবে, দুর্বল বা বাঁকা চারা বা কলম বাদ দিতে হবে। বেশি শাখা-প্রশাখাযুক্ত চারা বা কলম বাছাই করবেন না। বেশি শাখা-প্রশাখা থাকলে সেগুলো ছাঁটাই করে শুধু মূল কাণ্ডটি রেখে রোপণ করতে হবে। রোপণের আগে নিচের দিকের কিছু পাতার অর্ধেক ছাঁটাই করে দিতে হবে। এতে চারা বা কলম থেকে পানি বের হয়ে গাছ শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। কলমের গাছের বেলায় জোড় ঠিকমতো আছে কি না, তা পরখ করে নিতে হবে। বিশেষ করে আদিজোড়ে কোনো ফাটা দাগ আছে কি না, তা দেখে নিতে হবে। যদি থাকে তাহলে সেই কলম বাদ দিতে হবে। কলমের জায়গার পলিথিন খোলা হয়েছে কি না রোপণের আগে সেটাও দেখে নিতে হবে। চারা বা কলমের পাতা কোনো ধরনের পোকামাকড়ে আক্রান্ত থাকলে তা ছাঁটাই করে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক দিয়ে চারা বা কলম ভালোভাবে স্প্রে করার পর রোপণ করতে হবে। রোগাক্রান্ত কোনো চারা বা কলম রোপণের জন্য বাছাই করা ঠিক হবে না। বিশ্বস্ত উৎস বা প্রতিষ্ঠান থেকে সঠিক তথ্য নিয়ে উন্নত জাতের চারা বা কলম সংগ্রহ করে রোপণ করতে হবে। চারা বা কলমের শিকড় পলিব্যাগ বা মাটির পট ভেদ করে বের হয়েছে কি না সেটা দেখে নিতে হবে। যদি শিকড় বের হয় তাহলে সেটা ছাঁটাই করে দিতে হবে। পলিব্যাগ বা মাটির পটের মাটি ঠিক আছে কিনা সেটাও দেখে নিতে হবে। যদি চারা বা কলমের গোড়ার মাটি আলগা হয়ে সরে যায় কিংবা পট বা পলিথিন থেকে চারা বা কলম বের করার পর মাটির বল ভেঙে যায় তাহলে সেই চারা বা কলম বাদ দেয়া ভালো। চারা বা কলম কোথায় রোপণ করা হবে সেই জায়গাটি আগে থেকেই নির্ধারণ করতে হবে। রোদ পড়ে এবং ভবিষ্যতে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কোনো রকম বাধার সৃষ্টি না হয় এমন জায়গাই নির্বাচন করতে হবে। চারা বা কলম রোপণের আগেই বড় গাছের জন্য (আম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল, বাতাবি লেবু, সফেদা) দৈর্ঘ্য-প্রস্খ ও গভীরতায় ১ বর্গ মিটার গর্ত খনন করে কমপক্ষে ৭-১০ দিন খোলা অবস্খায় ফেলে রাখতে হবে। এ সময় গর্ত থেকে তোলা মাটি ঝুরঝুরে করে তার সাথে জৈব সার মিশিয়ে রাখতে হবে। মাঝারি গাছের জন্য (পেয়ারা, লেবু, জলপাই, কামরাঙ্গা, আমড়া) দৈর্ঘ্য-প্রস্খ ও গভীরতায় ৬০ বর্গ সেন্টিমিটার গর্ত খনন করতে হবে। ছোট গাছের জন্য (কলা, পেঁপে, ডালিম) দৈর্ঘ্য-প্রস্খ ও গভীরতায় ৪৫ বর্গ সেন্টিমিটার গর্ত খনন করতে হবে। রোপণের ঠিক ৩-৪ দিন আগে জৈব সার মিশ্রিত মাটির সাথে রাসায়নিক সার মিশাতে হবে এবং মাটি দিয়ে গর্ত এমনভাবে ভরাট করতে হবে যেন জমির সমতল থেকে ভরাটকৃত মাটির উচ্চতা ১৫-২০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়। ভরাট করা মাটি চার দিকে ঢালু করে দিতে হবে যেন পানি সহজেই গড়িয়ে যেতে পারে। এ সময় প্রয়োজনমতো পানি গর্তের মাটিতে দিতে হবে, যাতে মাটিতে রসের অভাব না হয়। এরপর গর্তের ঠিক মাঝখানে নিড়ানি বা হাত দিয়ে পট বা পলিব্যাগের সমান করে বা একটু বড় করে গর্ত করতে হবে। গর্তের মাঝে চারা বা কলম স্খাপন করতে হবে এমনভাবে যেন চারা বা কলমের গোড়া আগের অবস্খাতেই থাকে। অর্থাৎ আগে যেটুকু মাটির বলের নিচে ছিল কিংবা যেটুকু মাটির বলের বাইরে ছিল ঠিক সেভাবেই যেন থাকে। এতে চারা বা কলমের গোড়ার বাকল ঠিক থাকে এবং গোড়াপচা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। রোপণ করার পরপরই গাছে এবং গাছের গোড়ার চার দিকে কিছুটা পানি ছিটিয়ে দিতে হয়। রোপণ করা চারা বা কলমের সুরক্ষার জন্য ঘেরার ব্যবস্খা করতে হবে।

মাটির গুণাগুণ জেনে ফলের গাছ লাগাবেন

বাংলাদেশে প্রাপ্ত বেশিরভাগ ফল গাছই দেশের সর্বত্র কম-বেশি জন্মে থাকে। এর কারণ দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানের আবহাওয়ায় তারতম্য খুব বেশি নয়। দেশের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকার মাটির গুণাবলীর কিছুটা পার্থক্য আছে, সেই সঙ্গে আবহাওয়ার কিছুটা তারতম্য থাকায় যে স্থানে কোনো একটি ফল অল্প পরিশ্রমে সার্থকতার সঙ্গে এবং অধিকতর লাভজনকভাবে উত্পাদন করা যায়, সেই স্থানেই মানুষ বাণিজ্যিকভাবে ওই ফল চাষ করতে শুরু করেছে।

আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান এবং মাটির গুণাবলী ফল গাছের ফল ধারণ, বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণ- ইত্যাদি বিষয়গুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষেপে আলোচিত হলো-

ক. তাপমাত্রা

একেক ধরনের ফল গাছের বৃদ্ধি এবং ফল ধারণের জন্য একেক ধরনের তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। নির্ধারিত পরিধির চেয়ে তাপমাত্রা কম-বেশি হলে ফল চাষে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। একই ফলের বিভিন্ন জাতের মধ্যেও তাপমাত্রার প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হতে পারে।

খ. বৃষ্টিপাত

সব ধরনের ফল গাছেরই বৃষ্টিপাতের চাহিদা সমান নয়। বৃষ্টিপাত কম কিংবা অধিক বৃষ্টি অনেক ফল গাছের ক্ষতি সাধন করে। গাছে ফুল ফোটার সময় অধিক বৃষ্টি হলে পরাগ রেণু ও গর্ভমুণ্ডের আঠালো রস ধুয়ে যায়। ফুলে কীট-পতঙ্গের বিচরণ কমে যায়, এর ফলে নিষেকক্রিয়া ব্যাহত হয়ে ফল উত্পাদন হ্রাস পায়।

বাংলাদেশে ফল উত্পাদনের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার উপাদানগুলোর মধ্যে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত এ দুটিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে ঋতুভেদে কিছুটা তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।

গ. আলো

ফল গাছের বৃদ্ধি, ফল উত্পাদন এবং ফলের গুণগতমান অক্ষুণ্ন রাখতে আলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধরনের ফল গাছের জন্য আলোর চাহিদায় ভিন্নতা রয়েছে।

ঘ. বাতাসের আর্দ্রতা

ফলের আকার, আকৃতি, রং, গুণগতমান ইত্যাদি বাতাসের আর্দ্রতার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। অনেক ফল শুষ্ক আবহাওয়ায় ভালো জন্মে, আবার কিছু কিছু ফল উত্পাদনের জন্য আর্দ্র আবহাওয়া প্রয়োজন হয়।

ঙ. বাতাসের গতিবেগ

বাতাসের গতিবেগ ফল চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পেলে গাছ এবং মাটির রস দ্রুত নিঃশেষ হয়, এজন্য ঘন ঘন পানি সেচের প্রয়োজন হয়। এর ফলে উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া ঝড়ো বাতাসে ফল গাছের এবং ফলের অধিক ক্ষতি সাধিত হয়।

চ. মাটির গুণাবলী

সাধারণত, উঁচু জমি ফল চাষের জন্য অধিক উপযোগী। দেশের সব স্থানের জমির গুণাবলীতেও বেশ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কোনো স্থানের মাটি লালচে, কোথাও কালচে, কোনো স্থানের মাটিতে বালির আধিক্য, আবার কোথাওবা কর্দমাক্ত। কোনো স্থানের মাটিতে লবণের ভাগ বেশি, কোথাও আবার অম্লমান অধিক। কোথাও কম নিষ্কাশিত, কোথাওবা সু-নিষ্কাশিত। পানির স্তর কোথাও কম, কোথাও বেশি। মাটির উর্বরতা এবং ফল উত্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাটিতে।

ফল গাছের পারিপার্শ্বিক উপযোগিতা বিচার করে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ, অর্থনীতি, ফলশিল্প এবং সামাজিক বিষয়াদির উপর ভিত্তি করে প্রধান প্রধান ফলের চাষ বিশেষ বিশেষ এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়েছে। নিম্নে বাণিজ্যিক উত্পাদনকারী জেলাসমূহের একটি তালিকা দেয়া হলো-

১. কলা-

মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, বগুড়া, রংপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, রাঙামাটি, বান্দরবান ও ময়মনসিংহ।

২. পেঁপে-

রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, যশোর, খুলনা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি।

৩. আম-

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, গাজীপুর, রাঙামাটি ও রংপুর।

৪. লিচু-

পাবনা, দিনাজপুর, রাজশাহী, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নাটোর, কুষ্টিয়া, যশোর, ময়মনসিংহ ও পঞ্চগড়।

৫. কাঁঠাল-

চট্টগ্রাম, ঢাকা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদী, রাঙ্গামাটি, দিনাজপুর, নাটোর, পঞ্চগড়, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নরসিংদী ও কুষ্টিয়া।

৬. আনারস-

সিলেট, টাঙ্গাইল, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও নরসিংদী।

৭. তরমুজ-

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, কুষ্টিয়া, যশোর, কুমিল্লা, পটুয়াখালী ও রাজবাড়ী।

৮. আমড়া-

বরিশাল, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, পিরোজপুর ও যশোর।

৯. পেয়ারা-

বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, যশোর, পাবনা, গাজীপুর, কুমিল্লা, রংপুর, নাটোর, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।

১০. নারিকেল-

পটুয়াখালী, খুলনা, বাগেরহাট, ভোলা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রংপুর ও নাটোর।

১১. লেবু জাতীয় ফল-

সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, রাঙামাটি, রংপুর, পঞ্চগড় ও খাগড়াছড়ি।

১২. কুল-

পাবনা, রাজশাহী, রংপুর, গাজীপুর, কুমিল্লা, বরিশাল ও সিলেট।

ফলের বাগান করার আগে ও পরে যা করবেন

ফলের বাগান করার ইচ্ছে অনেকেরই থাকে। ফলের বাগান করার আগে কিছু প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলে ভবিষ্যতে লাভের মুখ দেখা সহজ হবে। শুধু তাই নয়, দেশে ফলের বাগান বাড়লে বিদেশ থেকে ফল আমদানিও কমবে। ফলের বাগান করে আপনিও বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন।

বাগানের সার্বিক সুরক্ষার খাতিরে ভূমি প্রস্তুতকরণের সঙ্গে সঙ্গে বাগান এলাকার চারদিকে স্থায়ীভাবে বেড়া, এমনকি পাকা দেয়াল নির্মাণের কাজটি সারতে পারেন। প্রতি চারার চারদিক ঘিরে বাঁশের বেড়া দিলে তাত্ক্ষণিক গরু-ছাগলসহ অন্যান্য পশু থেকে গাছ রক্ষা করা যেতে পারে। কিন্তু মিশ্র ফল-বাগান হচ্ছে একটি দীর্ঘকালীন প্রকল্প।

বিভিন্ন উপদ্রব থেকে বাগানকে রক্ষার জন্য চারদিকে বেড়া দিতে হয়। স্থায়ী বেড়া ইট-নির্মিত, অস্থায়ী বেড়া বাঁশের দরজা দিয়ে তৈরি এবং হেজ বা জীবন্ত বেড়া গাছ দিয়ে তৈরি করতে হবে। জীবন্ত বেড়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। স্বল্প-ব্যয়ে এটি সম্পন্ন করা যাবে। এ জন্য বাইরের দিকে সীমানা-বরাবর কাঁটা তারের বেড়া দেয়া যেতে পারে। আবার সরাসরিও হেজের গাছ করা যেতে পারে। কাঁটা তার টানার জন্য কংক্রিট-নির্মিত খাম কিংবা জিওলাজাতীয় খুঁটি স্থাপন করা যায়। হেজের গাছ ঝোপালো, ছাঁটাইয়ের জন্য উপযুক্ত, চিরসবুজ, ছাগলের আকর্ষণমুক্ত, কমযত্নে জন্মানোর উপযোগী এবং পোকা-মাকড় ও রোগবালাই প্রতিরোধ্য হলে ভালো হয়। দুরন্ত, কাঁটা-মেহেদী, শ্যাওড়া, করঞ্জা ও কামিনী উঁচু হেজ এবং জাস্টিসিয়া, ল্যান্টানা, অ্যাকালিফা, রঙ্গন, পাতাবাহার ও কোচিয়া অনুচ্চ হেজ তৈরির উপযোগী।

হেজের জন্য তিন সারি করে বীজ বপন করতে কিংবা শাখাকলম লাগাতে হয়। গাছগুলো প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতাসম্পন্ন হওয়ার পর প্রথমবার ভুতল থেকে ১৫ সেন্টিমিটারের উপরের ডগাগুলো কেটে দিতে হবে। কিছু দিন পরপর প্রয়োজনমত ছাঁটাই করে গোড়ার দিকেই গাছগুলোকে ঝোপালো ও দৃঢ় করে নিতে হবে। হেজ উত্পাদন ও সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত সার প্রয়োগ করা এবং দরকার মতো পানি-সেচ প্রদান আবশ্যকীয়। সেচের পানির উত্স অগভীর নলকূপ, টিউবওয়েল, কূপ, পুকুর ইত্যাদি। পাম্প, রবার নল, ঝারি ইত্যাদি সেচ কাজে ব্যবহৃত হয়। নার্সারি বা উদ্যানে উত্তম পানি-নিকাশ ব্যবস্থা থাকতে হবে। জমি উঁচু হওয়া ও একদিকে ঢালু করে দেয়া এবং প্রয়োজনমত সঠিক স্থানগুলোয় বা রাস্তার পাশ দিয়ে নিকাশ-নালা খনন করে নেয়া ভালোভাবে পানি-নিকাশের পূর্ব শর্ত।

প্রতিটি চারাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রাথমিকভাবে সকাল-বিকাল গাছের গোড়ায় অল্প-বিস্তর পানি-সেচন করলেই চলবে। কিন্তু মিশ্র ফল-বাগানের বিষয়টা সাময়িক নয়, সম্পূর্ণই দীর্ঘকালীন। যারা জোড়াতালি করে কোন ধরনের কতগুলো গাছকে দাঁড় করিয়ে দিলেই চলবে এবং গাছগুলো একটু বড় হলেই পানির ব্যবস্থা ও অন্যান্য যত্ন নিজেরাই করে নেবে বলে চিন্তা করবেন, তাদের জন্য ফল-বাগান করা যুক্তিযুক্ত নয়। বৃক্ষজাতীয় ফল-বাগান অবশ্যই দালান-কোঠার মতোই একটি দীর্ঘকালীন বিষয় বলতে গেলে ১০০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা। যদি দালান-কোঠা নির্মাণ কাজে পানির ব্যবস্থার কথা ভাবতে হয় এবং প্রয়োজন বুঝে ব্যবস্থা নিতে হয়, তবে ফল-বাগানের বেলায়ও এটি হবে প্রযোজ্য।

সেক্ষেত্রে চারা ঠিকমত বসে যাওয়ার আগেই শুষ্ক জলবায়ু এসে পড়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানি-সেচের ভালো ব্যবস্থা থাকা চাই। বর্ষার আগেভাগে চারা টিকে গেলে তথা সেট হয়ে গেলে, সেটি বাগানের মালিককে অনেকটাই চিন্তামুক্ত অবস্থায় রাখতে পারে।

চারা রোপণের সর্বাপেক্ষা উত্তম সময় গ্রীষ্মকালের প্রায় সবটা আর বর্ষাকালের প্রথম দিকটা। অর্থাত্ বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাস। শ্রাবণ-ভাদ্র মাস তথা ভরাবর্ষা পরিহার করা যুক্তিযুক্ত। ভরা বর্ষায় চারা পচে যাওয়া ও মরে যাওয়ার সম্ভাবনা অধিক হয়। আশ্বিন মাসে চারা রোপণ করা চলে।

চারা রোপণের আগের কাজটি হচ্ছে গর্ত তৈরি করা। অধিকাংশ বৃক্ষ-শ্রেণীর ফলগাছের বেলায় দুই ফুট ব্যাস ও গভীরতা বিশিষ্ট গর্ত খনন করা যেতে পারে। বলতে পারেন আম, কাঁঠাল, লিচু, লেবু ইত্যাদি গাছগুলোর বড় আকারের কথা। ওই আকার হচ্ছে পরিণত-বয়স্ক গাছের। কিন্তু চারা অবস্থায় গাছগুলোর আকার যেমন প্রায় একরূপ হয়ে থাকে, তাদের রোপণও হতে পারে প্রায় একই আকারের গর্তে। প্রারম্ভিক সারের প্রকার ও পরিমাণও হতে পারে অনেকটা একইরূপ। গর্তের মাটির সঙ্গে ১০ কেজি গোবর সার, ২৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ১০০ গ্রাম এমওপি সার মিশিয়ে দিতে হবে। 

এক্ষেত্রে নিম্নরূপ পদ্ধতি ব্যবহার করা ভালো। গর্তের একার্ধ, তথা উপরের দিকের মাটি গর্তের একপাশে আর অপরার্ধ বা নিচের দিকের মাটি অপর পাশে রাখতে হবে। এ অবস্থায় ১০/১৫ দিন (নিদেনপক্ষে এক সপ্তাহকাল) খোলা অবস্থায় রেখে গর্তে ও তোলা মাটিতে রোদ-বাতাস লাগানো মন্দ নয়। তত্পর উপরের মাটির সঙ্গে সার মিশিয়ে সার-মিশ্রিত মাটি গর্তের নিচের অংশে ঢেলে দিয়ে, অবশিষ্ট তথা নিচের দিকের মাটি উপরাংশে দিয়ে গর্ত পূরণ করে দিতে হবে।

জহবৃষ্টি না হলে চারা রোপণের পূর্বদিন গর্তে কিছু পানি-সেচ দেয়া যেতে পারে। রোপণের জন্য বিকালই প্রকৃষ্ট সময়। চারার শেকড় যতখানি বিস্তৃত ও গভীর, সে পরিমাণ গর্তের মাটি উঠিয়ে নিয়ে গর্তে চারার নিম্নাংশ প্রবেশ করিয়ে দিতে হবে। তার পর মূলগুলোকে গর্তের মধ্যে বেশ ভালোভাবে ছড়িয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে মাটি চাপা দিতে হয়। লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন চারাটির গোড়া পূর্ববর্তী মাটিতে যে স্থান পর্যন্ত অভ্যন্তরে ছিল এখানেও তাতে ততখানি পর্যন্ত মাটি চাপা দেয়া পড়ে। রোপণের পরে গোড়ার মাটি একটু চাপিয়ে দেয়া উত্তম। চারা রোপণের অব্যবহিত পরে এবং প্রথম কিছু দিনের জন্য প্রতিদিন ঝারি দ্বারা চারার গোড়ায় পানি সেচন করা উচিত। তা ছাড়া চারার উপরে ছায়াদানের ব্যবস্থা করা এবং গোড়ার মাটি শুষ্ক ঘাস, খড় ইত্যাদি দ্বারা ঢেকে দেয়া মন্দ নয়। রোপণের ছয় মাস পর কিছু ইউরিয়া সার ‘টপড্রেসিং’ রূপে ব্যবহার করা যেতে পারে।

Extension of agriculture

Bangladesh is the main country of agriculture. The main food of this country is rice. From rice to rice, about 80% of the people of Bangladesh work in agriculture.The people of Bangladesh are practicing socialized life.There are agricultural research centers in the country. There is a working group on agricultural quality improvement. A team of researchers.Because the soil of Bangladesh is very fertile, any crop can grow well.In Bangladesh, there are three types of soil, more often seen in Etel soil, rice crop is grown well on Etel soil.Other crops are good.Extension of agriculture Bangladesh is the main country of agriculture. The main food of this country is rice. From rice to rice, about 80% of the people of Bangladesh work in agriculture.The people of Bangladesh are practicing socialized life.There are agricultural research centers in the country. There is a working group on agricultural quality improvement. A team of researchers.Because the soil of Bangladesh is very fertile, any crop can grow well.In Bangladesh, there are three types of soil, more often seen in Etel soil, rice crop is grown well on Etel soil.Other crops are good.